ফুটফুটে ছোট্ট ছেলেটির দিন কেটে যায়
ধূলাবালির সাথে খেলা করে।কিছুটা
গম্ভীরমনা।বেশিক্ষণ নিরব থাকতেই
পছন্দ করে।হৈচৈ তার একেবারেই ভাল
লাগেনা।তবে হ্যা তার সবচেয়ে বেশি
পছন্দের জিনিসটি হল গান।একটি
স্টীলের থালা হাতে নিয়ে এর মধ্যে
আঙ্গুল ঠুকে আর গলা ছেড়ে গান গায়।
কেউ তার গান শুনলেই বলে উঠে,
---"এক বেলা পেট ভরে ভাত খাওয়ামু,তুই
একটা গান শুনারে।"
ছেলটি গান গায়,
---"সোঁয়াচান পাখি আমার সোঁয়াচান
পাখি........."
গানের অর্থ না বুঝলেও এটি সে তার
বাবার টেপ রেকর্ডার থেকে শিখেছে।
খুব ভাল গায় ও।বাবা শ্রমিক।দিন আনে
দিন খায়।সারাদিনে যা রোজগার হয় তা
দিয়েই সংসার চলে।পরিবারের লোক
সংখ্যা ৭ জন থেকে বেড়েই চলছে.....
নাম 'লা শ্রী তা সু।
দরিদ্র পরিবার নিয়ে বাবা মা
হতাশাগ্রস্থ।ঐ ছেলেটিই হচ্ছে
পরিবারের বড় ছেলে।কিন্তু ভারী কোন
কাজ করতে পারেনা সে।পানির দিন
আসলেই তার বাবা মাছ ধরে।পাশাপাশি
প্রতিবেশি রাষ্ট্র ভারতের পাহাড়
থেকে কাঠ কেটে বাজারে বিক্রি
করে।তাও আবার লুকিয়ে লুকিয়ে।মাঝে
মধ্যে মাছ বা খড়ির আঁটি দিয়ে
লাশ্রীতাসুকে বাজারে পাঠানো হয়
বিক্রি করার জন্য।তাকে যত টাকা
বিক্রি করার জন্য বলা হয় তত টাকা
ছাড়া অন্য কোন দামে সে বিক্রি
করেনা।আসল কথা হল লাশ্রীতাসু হিসাব
নিকাশে খুব কাঁচা।তাই সবাই তাকে
নিয়ে মজা করে।গ্রামের ভাষায়
'ব্যাক্কল'বলেও ডাকে তাকে।এভাবে
ধীরে ধীরে দিন কাটতে লাগল তার।
একদিন লাশ্রীতাসু দেখল,গ্রামের সকল
ছেলে মেয়েরা পাহাড় থেকে পাথর
আনতে যায়।এক বস্তা পাথরের দাম ১০-১৫
টাকা।সেও তাদের সাথে গিয়ে খুব কষ্ট
করে তিন বস্তা পাথর জমা করে ফেলল।
খুব খুশি।এখন লাশ্রীতাসু একটু বুৃঝে।টাকা
পেলে বাবা মা খুশি হবে এতে সেও
আনন্দিত।ঐ সময়ে চালের দর ১৫ টাকা
দর।সে এটা বুঝতে পারলো যে,দৈনিক
তিনটা বস্তা পাথর দিয়ে ভরা মানে ৩-৪
কেজি চাল ক্রয় করা।এতে খাবারের
অভাব কিছুটা হলেও ঘুচবে।
কয়েকদিন পরেই পাহাড়ি ঢলে বন্যার
সৃষ্টি হল তাদের এলাকায়।ঘরবাড়ি ডুবে
গেল তাদের।তারা সবাই চলে গেল
লাশ্রীতাসু এর নানার বাড়িতে অন্য
গ্রামে।নানা বেঁচে নেই।নানী আছে।
যাইহোক,সেখানেও বন্যা হানা দিল।শুধু
ভিটেখানা বেঁচে আছে।উঠানে
উরুপানি।সেইদিন ঘটল তার জীবনে একটি
ঘটনা।
পাহাড়ি ঢলে কয়লা নেমে এসেছে নদী
দিয়ে।এগুলো ধরতে বাড়ির সবাই চলে
গেল।বাড়িতে রয়ে গেল লাশ্রীতাসু,তার
ছোট ভাই ও ছোট মামা আমির হোসেন।
লাশ্রীতাসুতো একটু ব্যাক্কল টাইপের
ছিল,তাই তার মামা তাকে কথায় কথায়
ধমক আর থাপ্পর ছাড়া কোন কথা
বলেনা।আসলে সে হল পরিবারের
অবহেলিত একটি ছেলে।তো ঐদিন তার
ছোট ভাই ও তার মামা তাকে মারল।৪ টি
কলা তারা দুইজনেই ভাগ করে খেয়ে
ফেলল।লাশ্রীতাসুকে দিলইনা।বরং
অর্ধচন্দ্র দিয়ে তাকে বৃষ্টির মধ্যে ঘর
থেকে বের করে দিল।কোমর সমান পানি।
বাধ্য হয়ে তাকে বের হয়ে যেতে হল।
বেরুতে বেরুতে সে হঠাৎ দেখতে পেল
পুকুরের পাড় উপচে পড়া বন্যার পানিতে
তেলাপিয়া মাছ শিম গাছে বেড়া দেয়া
কারেন্টের জালের মধ্যে আটকা
পড়েছে।তাড়াতাড়ি সে বড় মাছটি ধরে
ফেলল আর ভাবল,এ মাছটি নিয়ে তার
মামার কাছে দিলে হয়তো তাকে আদর
করে ঘরে নেবে।বুক ভরা আশা নিয়ে
মামার কাছে মাছটি দিল।সেটি নিয়ে
তার মামা নিজ হাতে রান্না করে
লাশ্রীতাসুর ছোট ভাইকে নিয়ে
মাটিতে খেতে বসল আর মাছ খেয়ে তার
কাটাগুলো মেঝের উপর রেখে বলল,
--"নে তুই এগুলো খা।"
লাশ্রীতাসুর বুক ফেটে কান্না আসল।
কিন্তু কিচ্ছু করার নেই তার।অসহায়ের মত
বসে কিছুক্ষণ কেঁদে নিল।
বন্যা শেষ প্রাই।তবে তারা এখনো
নিজেদের গ্রামে যায়নি।লাশ্রীতাসু
মাঝেমধ্যে তাদের গ্রামে আসা যাওয়া
করে।তার এক ফুফু ও চাচাতো ছোট বোন
২য় শ্রেণীতে লেখা পড়া করে।তাদের
পাশে বসে মনযোগ সহকারে ওদের পড়া
শুণে।এভাবে সে অনেক কিছু শিখে
ফেলল তাদের কাছ থেকে।মাঝে মধ্যে
ওদের মত করে বানানও করে ফেলতে
পারে লাশ্রীতাসু।ওরাতো অবাক!
---"কিরে,তুই বানান করতে পারিস!ভর্তি
হয়ে যানা আমাদের সাথে।"
এ কথা শুনে তার আগ্রহ বেড়ে গেল।
লাশ্রীতাসু এই কথা বড় মামার সামনে
তার বাবা মায়ের কাছে বলল।
---"লেহাপড়া করলে অনেক টেহা
লাগে..."
বলে দুয়েক কথা শুনিয়ে দিল তার বাবা।
মামা বলল,
----"যার কপালে দু'বেলা ভাত জোটেনা
তার নাকি আবার লেখাপড়া! যা কালকে
থাইকা কয়লার ঠেলা গাড়ির পিছনে
ঠেলতে যাইবি এতে কিছু টাকা মিলবো
বাপ মায়ের অভাব দূর করবি।"
মন খারাপ করে চলে গেল।কোন দূরন্তপনা
নেই তার মনে।দুশ্চিন্তায় একা
নিড়িবিলিতে বসে আছে সে।
মা এসে বলল,
--"সত্যিই লেখা-পড়া করবি?"
---"হ্যা",
কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে জবাব দিল
লাশ্রীতাসু।
পরের দিন তার মা লাশ্রীতাসুকে স্কুলে
ভর্তি করে দিয়ে আসল।শিক্ষকরা তার
মেধা দেখে প্রথমই তাকে দ্বিতীয়
শ্রেণিতে ভর্তি করে দিল।শুরু হল
লাশ্রীতাসু এর শিক্ষা জীবণ(২০০৭)।
লাশ্রীতাসু এখন আনন্দে আত্মহারা।সে ৮
টাকা ফি দিয়ে বই নিয়ে নিল।নিয়মিত
স্কুলে যায়। বাড়িতে কেউ তাকে পড়তে
বসার জন্য তাগাদা দেয়না।আর দেবেই
বা কেন।কেউতো শিক্ষিত নয়।শিক্ষার
গুরুত্বও যেন তাদের কাছে আসারে গল্প।
আনন্দ আর আগ্রহের সাথে লেখা পড়া
করে লাশ্রীতাসু।শিক্ষকদের ও খুব সম্মান
করে।শিক্ষকরাও তাকে আদর স্নেহ করে।
মক্তবে সে আরবী শিখে।কিন্তু মক্তবে
তার তেমন পড়া হয়না।প্রতিদিন আরবী
পড়ার জন্য বাবা ও মায়ের হাতের
পিটুনী খেতে হয়।কিন্তু পরবর্তীতে
লাশ্রীতাসু সহি কুরআন প্রশিক্ষণে সনদ
লাভ করেছে।
এতটি বছর কেটে গেল তার এভাবেই।
পরের বছর লাশ্রীতাসু তৃতীয় শ্রেণিতে
তৃতীয় স্থান অধিকার করে উত্বীর্ণ হল
(২০০৮)।
তাকে ফ্রিতে লেখাপড়ার সুযোগ করে
দিলো প্রধান শিক্ষক।তারপর চতুর্থ
শ্রেণিতে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করল
(২০০৯)।
এখান থেকেই সে চিন্তাশীল হয়ে উঠল।
মাঝে মাঝে সে কবিতা লিখে।তার
নিজস্ব প্রচেষ্টায় লিখেও ফেলল
কয়েকটি কবিতা।তার কয়েকটি লাইন
হচ্ছে এরকম;
"সত্য ছাড়া চলবোনা মিথ্যা কথা
বলবোনা
সত্যের পথে চলবো সত্যের জয় করবো।
সত্য কাউকে মাথা নত করেনা
সত্য কাউকে ভয় করে চলেনা"
লাশ্রীতাসু এর প্রিয় খেলা
দাড়িয়াবান্দা ও গোল্লারছুট।এছাড়া
সে অন্য কোন খেলা খেলতে পারেনা।
অন্য ছেলেদের থেকে সে একটু অন্যরকম
থাকতে চায় ও হতেও চায়।বিভিন্ন
সাংস্কৃতিক অঙ্গনে খালি গলায়
ইসলামী গান ও ক্বেরাত প্রতিযোগীতায়
অংশ গ্রহণ করে প্রথম হয়।এতে সে আরও
অনুপ্রেরণা পায়।
৫ম শ্রেণীতে লাশ্রীতাসু প্রথমস্থান
অধিকার করলো(২০১০)।
গ্রামের সেই হাবাগোবা ছেলেটি হয়ে
উঠল মেধাবী।এখন তাকে পুরু এলাকার
মানুষ এক নামেই চিনে।সবাই তাকে
আগ্রহ অনুপ্রেরণা দেয়।তার সুন্দর আচরণ
তাকে আরও প্রিয় করে দিল সবার
কাছে।বড়রা তাকে স্নেহ করে।ছোটরা
করে সম্মান।নেতৃ্ত্ব দানের গুণাবলী তার
মাঝে ফুটে উঠতে লাগলো।পুরু স্কুলের
ক্যাপ্টিনের দায়িত্ব পেল সে।
সকাল ৭ টায় চলে আসে স্কুলে।প্রাইভেট
বা কোচিং ক্লাসসহ বিদ্যালয়ের
যাবতীয় কাজ সমাপ্ত করে বিকাল ৪:৩০
মিনিটে বাড়ি ফিরে।লেখা পড়ায় সে
একটু বেশি মনযোগ দিলো।কারণ,তাকে
সমাপনী পরীক্ষা দিতে হবে।৪৬ জন
ছাত্র/ছাত্রীর মধ্যে তাকে বিনা
বেতনে প্রাইভেট পড়ায় তার প্রিয়
শিক্ষক যোবায়ের স্যার।স্যার খুব আদর
করে ওকে।পড়ন্ত এক বিকেলবেলা
যোবায়ের স্যার লাশ্রীতাসু এর মাথায়
হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল,
---"দেখ বাবা,আমি সবাইকে প্রাইভেট
পড়াচ্ছি।তবে তুমাকে নিয়ে আমি বড়
আশা করি।আমার মুখ রাখতে পারবাতো?"
---"স্যার,আপনি শুধু দোয়া করবেন।সকল
প্রচেষ্টা আমার।",
লাশ্রীতাসু জবাব দিল।
পরীক্ষা নিকটবর্তী হয়ে এল।নির্দিষ্ট
সময়ে পরীক্ষা দিয়েও দিলো।পরীক্ষার
দিনগুলো তার আনন্দেই কেটেছিল।তিন
মাস পরে তার রেজাল্ট বের হল।
পরীক্ষায় প্রথম বিভাগ পেয়ে উত্তীর্ণ
হল লাশ্রীতাসু।স্কলারশিপ বৃত্তিও পেল
সে।সবার মুখ সে উজ্জ্বল করে দিলো।
তার পিতামাতাও আনন্দিত।কিন্তু সমস্যা
হল ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হতে হলে ৬৮০
টাকার প্রয়োজন।৬০০ টাকা অর্জন করলে
তার পিতার লাগে দুইদিন।আর দুইদিনের
অর্জিত টাকা ছেলেকে দিয়ে দিলে
চলবেনা পরিবার।একটা ঝামেলায় পড়ে
গেল বাবা।হাইস্কুলের একজন সহকারী
শিক্ষক নজরুল ইসলাম লাশ্রীতাসু
সম্পর্কে জানে।তাই স্কুলের আঙ্গিনায়
তাকে ঘুরতে দেখে প্রধান শিক্ষকের
কাছে আবেদন করে ভর্তি করিয়ে দেয়
৬ষ্ঠ শ্রেণিতে(২০১১)।
বাড়ি এসে বাবা মাকে সুসংবাদটি
জানালো।এতে সবাই খুশি হল।শুরু হল
লাশ্রীতাসু এর হাইস্কুল জীবণ।অধ্যায়ন
করতে লাগল বিনা বেতনে।এভাবে সে
যথাক্রমে ৭ম(২০১২) ও ৮ম(২০১৩) শ্রেণীতে
প্রথম স্থান অধিকার করলো।নিয়মিত
নামাজ আদায় করে।ক্লাসের সবাইকে
সে নামাজের দাওয়াত দেয়।অমুসলিম
বন্ধুদের প্রতি খুব যত্নশীল।প্রতিদিন
তাদের খোঁজ খবর নেয়।
JSC পরীক্ষায় সে GPA 5.00 (A+)পেল।
চারিদিকে সে খবরটি বিদ্যুৎ গতিতে
ছড়িয়ে পরল।পাশের গ্রামের প্রাথমিক
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খলিল
মাস্টার তাকে অনুপ্রেরণা দিতে লাগল
বিজ্ঞান শাখায় ভর্তি হওয়ার জন্য।
কিন্তু লাশ্রীতাসু যে বিদ্যালয়ে পড়ে
সেখানে কোন বিজ্ঞান শাখা নেই।তাই
অন্য একটি বিদ্যালয়ে ইন্টারভিউ দিল
যেখানে বিজ্ঞান শাখা রয়েছে।
সেখানেও ভর্তির জন্য সাহায্য করল
খলিল মাস্টার।শুরু হল নবম শ্রেণীতে
অধ্যায়ন(২০১৪)।লেখা পড়ার খরচ বাড়ি
থেকে দিতে পারেনা।তাই সে টিউশনী
খৌঁজতে থাকে।পাশেই ছিল একটি
প্রাথমিক বিদ্যাল।যার প্রধান শিক্ষক
আব্দুস সাত্তার।সম্পর্কে নানা হয়।
লাশ্রীতাসু তার সব বিষয় খোলে বলল
উনার কাছে।তিনি বলে দিলেন যেন
চতুর্থ শ্রেণীর সকল ছাত্র/ছাত্রী
লাশ্রীতাসু এর নিকট প্রাইভেট পড়ে।
টিউশনীর টাকা দিয়ে তার সকল খরচ ও
লেখা পড়া চলতে লাগল।দু'বছর পেরিয়ে
এল SSC পরীক্ষা(২০১৫)।
পরীক্ষায় আশানুরূপ ফলাফল না আসলেও
একটি সরকারী কলেজে ভর্তি হতে পারল
সে। আশাহত জীবণ এখন সম্ভাবনাময়
জমিতে পরিণত হয়েছে।তার দু'চোখে শুধু
সুদূর প্রসারী স্বপ্ন।তবে অর্থের অভাব
ঘুচেনি।স্রষ্টাকে ধন্যবাদ জানায় সে।
লেখকঃ
মনির হোসাইন
গ্রামঃ লামাকাটা
পোঃ শ্রীপুর
উপজেলাঃ তাহিরপুর
জেলাঃ সুনামগঞ্জ
Showing posts with label সাহিত্য দর্পন. Show all posts
Showing posts with label সাহিত্য দর্পন. Show all posts
Wednesday, September 13, 2017
একটি আদর্শবাদী দলের পতনের কারণ,তার থেকে বাঁচার উপায়→আব্বাস আলী খান
সংক্ষিপ্ত নোট(মনির হোসাইন)ঃ
_______________________________
- আদর্শবাদী দলঃ-প্রতিষ্ঠিত সমাজ ব্যাবস্থা সমূলে উৎপাটিত করে তার স্থলে ভিন্ন করে এক সমাজ ব্যাবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হলে একটি আদর্শ বেচে নিতে হবে।এ চিন্তা ও আদর্শের সাথে যারা সকল দিক দিয়ে একমত পোষণ করে তারা একটি দল গঠণ করে, একে বলা হয় আদর্শবাদী দল।এ দল ইসলামী হতে পারে, ইসলাম বোরোধীও হতে পারে।
- আদর্শবাদী দলের পতনের কারণঃ-
- দলের লক্ষ্য ও উদ্দ্যেশ্যকে জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হিসাবে গ্রহণ না করা।
- কুরআন, হাদীস ও ইসলামী সাহিত্য অধ্যায়ণ না করা।
- সময় ও অার্থিক কুরবানীর প্রতি অবহেলা।
- দলীয় মূলনীতি মেনে না চলা।
- ইনসাফ প্রতিষ্ঠা না করা।
- ভ্রাতৃত্ব বোধের অভাব।
- নিম্ন লিখিত কারণে পারস্পরিক সম্পর্ক বিনষ্ট হয়ঃ
ক)হিংসা-বিদ্বেষ
খ)গীবত,পরনিন্দা,পরচর্চা
গ)পরশ্রীকাতরতা
ঘ)একে অপরকে সন্দেহের চোখে দেখা
ঙ)কারো বিপদে আপদে তার খোজ খবর না নেয়া
চ)অযথা কারো প্রতি কুধারণা করা
ছ)ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত থাকা
8.নিম্নলিখিত কারণে একটি দলের প্রকৃত পরিচয় হারিয়ে ফেলে
ক)কৃত শপথ পূরণ না করা
খ)নিয়মিত দাওয়াতি কাজ না করা
গ)মাসিক এয়ানত না দেয়া
ঘ)দলের ডাকে সকল ব্যাক্তিগত ও বৈষয়িক কাজ পরিহার করে নির্দিষ্ট সময়ে যথাস্থানে হাজির না থাকা
ঙ)আল্লাহর ভয় ও আখিরাতের জবাবদিহি না থাকা
9.জনশক্তির মাঝে নৈরাশ্য ও হতাশা সৃষ্টি করা।
10.নেতৃত্বের অভিলাষ
11.অর্থ সম্পদের প্রতি লালসা
12.জীবণমান উন্নত করার প্রবণতা
13.সহজ সরল জীবণ যাপন না করা
14.নেতৃত্বের দূর্বলতা
15.নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা
16.বায়তুলমাল সম্পর্কে আমানতদারীতার অভাব এবং আর্থিক লেনদেনে সততার অভাব
- তার থেকে বাঁচার উপায়ঃ-
- নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক স্থাপন।
- আল্লাহর সন্তোস অর্জন।
- অতিরিক্ত যিকির করা।
- আত্মসমালোচনা।
- ক্রোদ দমন করা।
- মৌলিক বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করা।
- বিরোধী পরিবেশ পরিস্থিকি দ্বারা প্রভাবিত না হওয়া।
- সমস্যার ত্বরিৎ ও সঠিক সমাধান।
- ত্যাগ ও কোরবানী।
নৈতিকতাহীন মানুষ,মানবতা বিবর্জিত কর্মশালা→ মনির হোসাইন
_____________________
পাশ্চাত্য সভ্যতা পৃথিবীর গোটা মানব জাতিকে ছোয়াচে রোগের মত সংক্রমিত করে ফেলেছে।পাশ্চাত্য সংস্কৃতি গোটা মানব সমাজকে পঁচা ও দুর্গন্ধময় করে তুলেছে।একটা সন্তান তিলে তিলে বড় হচ্ছে আর তার মস্তিষ্কের প্রতিটা কোষে সেই অপসংস্কৃতির প্রতিটা শব্দকে ধারণ করছে।পশ্চিমা দেশের কোন পিতা মাতা তাদের সন্তানদের নিজ হাতে লালন পালন করে না।সকল দায়িত্ব সরকার নিয়ে নেয়।আমেরিকায় যান একই ঘটনা ঘটবে।যেখানে পিতা মাতার আদর ভালবাসার সংস্পর্শ ছাড়াই অপসংস্কৃতির যাতাকলে বেড়ে উঠে সন্তান।তাদেরকে শেখানো হয় অনৈতিকতা।নেই স্রষ্টা সম্পর্কিত কোন জ্ঞান বিজ্ঞান।
বস্তুত,এটা বিশ্ব মানবতার জন্যে খুবই দুর্ভাগ্যজনক যে,Senstate বৈজ্ঞানিক সংজ্ঞায় মানুষকে "merely a complex of electrone and protons, an animal organism,a reflex mechanism, a variety of stimulus response relationship or a psyco-analytical bag filled with psycho-logical libido"
অর্থাৎঃ"ইলেকট্রন ও প্রোটনের একটি যৌগিক ছাড়া আর কিছছুই নয়।একটি পাষবিক দেহ সংগঠণ আর একটি জীবণ যন্ত্রের প্রতিবিম্ব।ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া সম্পর্কের একটি বিচিত্র প্ররকাশ অথবা একটি মনঃসমিক্ষণ গত ব্যাগ যেটি নানা বিদ্যাগত কর্ম প্রেরণা বা কর্ম শক্তিতে ভরা।"
বলে আখ্যায়িত করেছে।
এই সংজ্ঞা মানুষকে শুধু একটা নিছক biological organism এ পরিণত করেছে।যে জীবণকে পশুর সাথে তুলনা করা হয়েছে।এসব তত্ত্ব ভিত্তিহীন।কেননা মানুষ কোন ক্রমেই পশু নয়।পশুর ঊর্ধ্বে তার স্থান।তার রয়েছে কাজের তাগিদ, রয়েছে নিজেকে চালিত করার চেতনা ও উদ্দীপনা।তার রয়েছে উপলব্দি করার ক্ষমতা,সিদ্ধান্ত নেবার বোধশক্তি।এমন মানুষকে পাশ্চাত্য শিক্ষা,সাহিত্য ও সংস্কৃতি দ্বারা গড়ে তুলা হয়েছে নীতি নৈতিকতাহীন ও মানবতা বিবর্জিত করে।যেখানে প্রতিটা সন্তান বড় হয়ে মা বাবাকে পাঠায় বৃদ্ধাশ্রমে।দিনের পর দিন,বছরের পর বছর চলে যায়, সন্তান মা বাবার কোন সন্ধান নেয় না,তাদের জন্য ভালবাসা, দরদ ও মমত্ববোধ দেখায় না, সেখানে তাদের কাছ থেকে বিশ্ব মানবতার জন্য কল্যাণ আশা করা বোকামী ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না।যেখানে স্রষ্টা কর্তৃক প্রণীত নৈতিক শিক্ষা ও সংস্কৃতি নেই সেখানে মানবতা লাঞ্চিত হবেই।কোন সন্দেহ নেই।আজকের পৃথিবী পরিচালকরা হলো ঐ ধাচের মানুষ।শুধু রোহিঙ্গা নয়, রাজনৈতিক স্বার্থে তারা পৃথিবীর যে কোন মানবতাকে বিসর্জন দিতে প্রস্তুত।মানবতার চেয়ে দেশ ও জাতি কখনো মুখ্য হতে পারে না।
সুতরাং আসুন সুক্ষ্ম,সুন্দর ও নান্দনিক নৈতিকতায় আমরা গড়ে উঠি এবং আমাদের সন্তানদের গড়ে তুলি।
http://www.monirhossain.jimdo.com
Subscribe to:
Posts (Atom)
সুনামগঞ্জের সর্ববৃহৎ সামাজিক অনলাইন প্লাটফর্ম 'সুনামগঞ্জ ডটকম'
আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশ, পিছিয়ে নেই বাংলাদেশের একটি অন্যতম জেলা সুনামগঞ্জ এবং তার মাটি ও মানুষ। অন্যদের মত স...
-
সংক্ষিপ্ত নোট(মনির হোসাইন)ঃ _______________________________ আদর্শবাদী দলঃ-প্রতিষ্ঠিত সমাজ ব্যাবস্থা সমূলে উৎপাটিত করে তার স্থলে ভিন...
-
২৮ শে অক্টোবর ২০০৬। বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কলংকিত দিন।২০০৬ সালের ২৮ শে অক্টোবর আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ১৪ দলের সশস্র ...
-
২১ নং ওয়ার্ডের শিবগঞ্জ বখতিয়ার বিবি স্কুলে ঘড়ি মার্কার নির্বাচনী কাজ করাকালে কতোয়ালী থানার সভাপতি শিবির নেতা ফাহাদের উপর পুলিশ পায়ে...


